আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন বন্ধুরা? আসাকরি ভালো আছেন। বর্তমান প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে ল্যাপটপ একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসে পরিণত হয়েছে। প্রোডাক্টিভিটি, শিক্ষামূলক কার্যক্রম, বিনোদন এবং নানা ধরনের সৃজনশীল কাজে ল্যাপটপের বিকল্প নেই। নতুন ল্যাপটপ কেনার কথা চিন্তা করলে, বাজারের অসংখ্য বিকল্পের মধ্যে সঠিক ল্যাপটপ বেছে নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ল্যাপটপ কেনার আগে আপনাকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এই আর্টিকেলে আমরা নতুন ল্যাপটপ কেনার পূর্বে বিবেচ্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবো, যাতে আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সেরা পছন্দ করতে পারেন।
উদ্দেশ্যঃ
ল্যাপটপ কেনার প্রথম ধাপ হচ্ছে আপনার কাজের ধরন নির্ধারণ করা। আপনি কী ধরনের কাজের জন্য ল্যাপটপ কিনতে চাচ্ছেন? এটি নির্ধারণ করতে পারলেই আপনি সঠিক কনফিগারেশনের ল্যাপটপ বেছে নিতে পারবেন।
সধারণ বা শিক্ষা মূলক কাজের জন্য হালকা কনফিগারেশনের ল্যাপটপ যথেষ্ট। এসব কাজের জন্য শক্তিশালী প্রসেসর বা গ্রাফিক্স কার্ডের প্রয়োজন হয় না। প্রোগ্রামিং এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর জন্য একটু শক্তিশালী প্রসেসর এবং পর্যাপ্ত র্যাম প্রয়োজন। এছাড়া এসএসডি স্টোরেজ হলে ভালো হয়, কারণ এটি দ্রুত ডেটা অ্যাক্সেস করতে সাহায্য করে। গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ভিডিও এডিটিং এর ক্ষেত্রে ভালো মানের ডিসপ্লে এবং শক্তিশালী গ্রাফিক্স কার্ড দরকার। এছাড়া ১৬ বা ৩২ জিবি র্যাম এসএসডি স্টোরেজ দরকার। যদি আপনি গেম খেলার জন্য ল্যাপটপ কিনতে চান, তবে শক্তিশালী গ্রাফিক্স কার্ড ও প্রসেসর বেছে নিতে হবে। তবে গেমিংয়ের জন্য ল্যাপটপ না নেওয়াই ভালো।
প্রসেসরঃ
ল্যাপটপের পারফরম্যান্স মূলত এর প্রসেসরের ওপর নির্ভর করে। প্রসেসর নির্বাচন করার সময় আপনার ব্যবহারের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বাজারে প্রধানত দুটি প্রসেসর নির্মাতা কোম্পানি রয়েছে ইন্টেল এবং এএমডি।
ইন্টেলের প্রসেসরগুলি বিভিন্ন সিরিজে আসে, যেমন i3, i5, i7, i9। সাধারণ ব্যবহারের জন্য i3 এবং i5 যথেষ্ট, তবে বেশি পারফরম্যান্সের জন্য i7 বা i9 নিতে হবে। এএমডির Ryzen সিরিজের প্রসেসরগুলোও শক্তিশালী। Ryzen ৩, ৫ এবং ৭ মডেলগুলো সাধারণ থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কাজের জন্য ভালো। বিশেষ করে মাল্টি-টাস্কিং এবং গেমিং-এর জন্য AMD এর প্রসেসর ভালো কাজ করে।
র্যামঃ
র্যাম ডিভাইসের গতি এবং মাল্টি-টাস্কিং-এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্টুডেন্ট প্রোজেক্ট বা লাইট ওয়েব ব্রাউজিং-এর জন্য ৮ জিবি র্যামই যথেষ্ট। যদি আপনি প্রোগ্রামিং, ভিডিও এডিটিং, বা গেমিং-এর জন্য ল্যাপটপ কিনতে চান, তবে কমপক্ষে ১৬ জিবি র্যাম নেওয়ার পরামর্শ রইল। এতে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন একসাথে চালানো যাবে এবং কমপিউটারের গতি কমবে না। যদিও ৮ জিবি দিয়েই প্রোগ্রামিং বা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট করা যায়।
স্টোরেজঃ
হার্ড ডিক্সের স্টোরেজের ক্ষমতা বেশি হলেও এটি ধীরগতির। বড় স্টোরেজ প্রয়োজন হলে ১ টিবি বা ২ টিবি হার্ড ডিক্স সমন্বিত ল্যাপটপ বেছে নিতে পারেন, তবে এসএসডির চেয়ে এটি কম দ্রুতগতির হবে।
এসএসডি দ্রুত ডেটা রিড এবং রাইট করতে পারে, তাই এটি ল্যাপটপের গতি যথেষ্ট ফাস্ট রাখবে। যদিও এসএসডির দাম একটু বেশি, তবে ২৫৬ বা ৫১২ জিবি এসএসডি সমন্বিত ল্যাপটপ আপনার ফাইল স্টোরেজ এবং অ্যাপ্লিকেশন চালানোর জন্য যথেষ্ট হবে।
ডিসপ্লেঃ
ডিসপ্লের আকার এবং রেজোলিউশন ল্যাপটপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ল্যাপটপের স্ক্রিন সাইজ ১৩ ইঞ্চি থেকে ১৭ ইঞ্চি পর্যন্ত বিভিন্ন আকারে পাওয়া যায়। ১৫ ইঞ্চি স্ক্রিন সাধারণত জনপ্রিয় এবং ভারসাম্যপূর্ণ আকার হিসেবে বিবেচিত। তবে আপনি যদি বেশি পোর্টেবিলিটি চান, তাহলে ১৩ বা ১৪ ইঞ্চি স্ক্রিন উপযুক্ত হতে পারে।
ব্যাটারিঃ
যদি আপনি বেশি সময় ধরে বাইরে কাজ করেন বা প্রায়ই ভ্রমণ করেন, তবে ব্যাটারি লাইফ গুরুত্বপূর্ণ। ল্যাপটপের ব্যাটারি ব্যাকআপ কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা হলে ভালো। আল্ট্রাবুক এবং পোর্টেবল ল্যাপটপগুলি সাধারণত দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ প্রদান করে। তবে আমাদের দেশে বেশিরভাগ সময়েই দেখা যায় ল্যাপটপ ভালো সার্ভিস দিলেও ব্যাটারি ভালো সার্ভিস দেয় না।
তো বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই। নতুন ল্যাপটপ কেনার পূর্বে বিবেচ্য বিষয়গুলো নিয়ে আমার মতামত শেয়ার করার চেষ্টে করেছি। চাইলে আমাদের প্রযুক্তি ক্যাটেগরি থেকে ঘুরে আসতে পারেন।
কমেন্ট করুন