প্রোডাক্টিভিটি হলো নির্দিষ্ট সময়ে কাজের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষমতা। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু পেশাগত জীবনেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর সহজ ও কার্যকরী ৮ টি উপায় নিয়ে আজকের আলোচনা।
১. লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর প্রথম ধাপ হলো লক্ষ্য নির্ধারণ করা। লক্ষ্য ছাড়া কাজ করলে সময় ও শক্তি উভয়ই নষ্ট হয়। লক্ষ আপনাকে ফোকাসড থাকতে সাহায্য করবে। এবং লক্ষ নির্ধারণের মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারবেন।
২. গুরুত্ব অনুযায়ী কাজ করুন
সব কাজ সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। Eisenhower Matrix ব্যবহার করে কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী সাজাতে পারেন এতে আপনার জরুরি কাজ গুলো সহজেই শেষ করতে পারবেন। জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলো ফেলে না রেখে এখনই করুন। গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু জরুরি নয় এমন কাজের জন্য সময় নির্ধারণ করুন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করুন। জরুরি কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন কাজের ক্ষেত্রে সম্ভব হলে অন্যদের দিয়ে করিয়ে নিতে পারেন এতে আপনি জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন। এমন কিছু কাজ থাকে যা না জরুরি, না গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো বাদ দিয়ে প্রয়োজনে বিশ্রাম নিন।
৩. সময়ের সঠিক ব্যবহার করুন
সময় হলো সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সময় সঠিক ব্যবহারের জন্য কয়েকটি কৌশলগুলো অনুসরণ করতে পারেন। ২৫ মিনিট কাজ করে ৫ মিনিট ব্রেক নিন। ২ থেকে ৩ ঘন্টার কাজের শেষে দীর্ঘ ব্রেক নিন। এতে মস্তিস্ক খানিকটা রিফ্রেশ হবে। দিনের প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা সময় ব্লক করুন। এই পদ্ধতি আপনাকে অপ্রয়োজনীয় কাজ এড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে ফোকাস করতে সাহায্য করবে।
৪. টু-ডু লিস্ট তৈরি করুন
প্রতিদিনের কাজের একটি লিস্ট তৈরি করুন এবং তা অনুসরণ করুন। এটি আপনাকে অর্গানাইজড রাখবে এবং কাজের অগ্রগতি বুঝতে সাহায্য করবে। আজ রাতেই আগামী দিনের জন্য একটি টু-ডু লিস্ট করে নিন। এতে সকালে কাজ শুরু করতে সুবিধা হবে।
৫. একই ধরনের কাজ একসাথে করুন
যখন আমরা বিভিন্ন ধরনের কাজ একসঙ্গে করতে যাই, তখন আমাদের মস্তিষ্ক এক কাজ থেকে অন্যটিতে স্যুইচ করতে সময় নেয়। তাই একসাথে একই ধরনের কাজ করলে কাজ গুলো দ্রুত শেষ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ দিনের এক নির্দিষ্ট সময়ে শুধুমাত্র ইমেইল উত্তর দেওয়া যেতে পারে। অথবা একসাথে একাধিক ফোন কল করা যেতে পারে। এর ফলে আপনি একটানা বেশি ফোকাসড থাকতে পারবেন এবং সময়ের অপচয় কম হবে।
৬. ডিসট্রাকশন কমান
ফোনের নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল চেক করার অভ্যাস—এসব আমাদের প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দেয়। এখন প্রশ্ন হলো কীভাবে ডিসট্রাকশন কমাবেন? কাজ করার সময় ফোন সাইলেন্ট বা ‘Do Not Disturb’ মোডে রাখুন। নির্দিষ্ট সময়ে ইমেইল ও সোশ্যাল মিডিয়া চেক করুন। ডিস্ট্রাকশন কমাতে পারলে দ্রুত ও ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন।
৭. টেকনোলজি ব্যবহার করুন
প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন টুল ও অ্যাপ ব্যবহার করুন। এতে আপনার কষ্ট কমার পাশাপাশি সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেওয়ার সময় পাবেন।
৮. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম, ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাবার প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এটি আপনার এনার্জি লেভেল বাড়াবে এবং মনোযোগ বাড়াবে।
প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানো একদিনের কাজ না। এটি নিয়মিত চর্চা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে অর্জন করা যায়। আশাকরি উল্লেখিত উপায়গুলো অনুসরণ করে আপনি আপনার কাজের গতি ও গুণগত মান বাড়াতে পারবেন। মনে রাখবেন, ছোট ছোট পরিবর্তনই বড় সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়। নিয়মিত চেষ্টা করুন এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। আমাদের ক্যারিয়ার ক্যাটেগরি ভিজিট করতে ভুলবেন না। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।
কমেন্ট করুন