প্রযুক্তি বিশ্বে লিডিং কোম্পানি গুলোর মধ্যে অ্যাপেল অন্যতম। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বহু চড়াই-উতরাই পার করে এখন পর্যন্ত সিংহাসন দখল করে আছে আমেরিকান এই কোম্পানি। তবে এতদিনের যাত্রা কেবলই সুখকর ছিল না। কখনো ছিলো রাজার তকমা কখনোবা ব্যর্থতার তিক্ত স্বাদ। অ্যাপেলের বেশ কিছু প্রোডাক্ট আশানুরূপ ব্যাবসা করতে পারেনি। এমনই কিছু প্রোডাক্ট নিয়ে সাজিয়েছি আজকের আর্টিকেল।
অ্যাপেল থ্রি (Apple iii):
অ্যাপেলের ব্যর্থতার সূচনা হয় অ্যাপেল থ্রি দিয়ে। অ্যাপেল টু দিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় সারা জাগানোর পর অ্যাপেল থ্রি কম্পিউটার বাজারে আনে অ্যাপেল। সকলের ধারণা ছিল অ্যাপেল থ্রি অ্যাপেলকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যাবে। কিন্তু সকলের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে অ্যাপেল থ্রি অ্যাপেলের প্রথম ব্যর্থ প্রডাক্ট হিসেবে পরিচিতি পায়। একারণে অ্যাপেল বাজার থেকে প্রায় ১৪ হাজার কম্পিউটার সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
অ্যাপেল লিসা (Apple Lisa):
বর্তমানে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার বহুল ব্যবহৃত একটি পণ্য হলে ১৯৮০ দশকে পার্সোনাল কম্পিউটার থাকাটা ছিল মোটামুটি দুর্লভ একটি বিষয়। অ্যাপেল লিসায় গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস যুক্ত ছিল। তখন কম্পিউটার আজকের মতো এত সহজলভ্য ছিলোনা। অ্যাপেল লিসার দাম যেমন ছিলো আকাশ ছোয়া ঠিক তার বিপরীতে এর পার্ফমেন্স ছিলো বাজে। এই কম্পিউটার বাজারে এনে অ্যাপেলের প্রায় ৫০ হাজার ডলারের লস গুণতে হয়।
ম্যাকিন্টোস পোর্টাবেল (Macintosh Portable):
অ্যাপেলের প্রথম ব্যাটারিচালিত কম্পিউটার ছিল ম্যাকিন্টোস পোর্টাবেল। তবে এর নাম পোর্টেবল হলেও ওজনের কারণে একে নাড়াচাড়া করা মোটেও সহজ ছিল না। ১৯৮৯ সালে বাজারে আনার পর মাত্র দুই বছর বাজারে স্থায়ী ছিল অ্যাপেলের এই কম্পিউটারটি। এর র্যাম রম ছিলো যথাক্রমে ১ এমবি এবং ২৫৬ কেবি।
কপল্যান্ড (Copland):
অ্যাপেলের আরো একটি ব্যর্থ প্রোডাক্ট হলো কপল্যান্ড। অ্যাপেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কপল্যান্ডের অপারেটিং সিস্টেমটি উইন্ডোজের বিভিন্ন অ্যাপ রান করার পাশাপাশি উইন্ডোজের সাথে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম। টানা কয়েক বছরের চেষ্টার পরেও কোন সফলতা না পাওয়ায় অ্যাপেলকে একপ্রকার বাধ্য হয়েই কপল্যান্ড প্রোজেক্ট বাদ দিতে হয়।
অ্যাপেল পিপিন (Apple Pippin):
গেমিং জগতে সনি, নিন্টেন্ডো বা সেগার মতো কোম্পানিগুলো অনেক আগে থেকেই আধিপত্য বিস্তার করেছিলো। একারণেই জনপ্রিয় গেমিং কোম্পানি গুলো এদের সাথে সামাঞ্জস্য রেখেই গেম ডেভেলপ করত। ১৯৯৬ সালের দিকে গেমিং জগতে প্রতিযোগিতায় নামে অ্যাপেল। যেখানে অ্যাপল পিপিনের দাম ছিল ৬০০ ডলার সেখানে মাত্র ২০০ ডলারেই পাওয়া যেত হাই পারফরম্যান্সের নিন্টেন্ডো ৬৪ কন্সোল। উচ্চদামের কারণে বছর খানেক স্থায়ী হতে পেরেছিলো অ্যাপেল পিপিন।
নিউটন (Newton):
বিজ্ঞানী নিটন আর আপেলের মজার কাহিনী জানেনা এমন কেউ নেই বললেই চলে। সেই কাহিনির সাথে মিল রেখেই অ্যাপেল বাজারে আনে নিউটন। নিউটনের বিশেষত্ব ছিলো এটি হাতের লেখাকে টেক্সটে পরিণত করতে পারত। তবে বাজে পার্ফমেন্সের কারণে এটিও অ্যাপেলের অন্যতম একটি ব্যর্থ প্রোডাক্টে পরিণত হয়।
অ্যাপেল এর চড়া দামের কারণে সবসময় আলোচনায় থাকে। আবার বহুদিন ধরেই অ্যাপেল এর অবস্থান ধরে রাখতেও সক্ষম হয়েছে। হয়তো একদিন অ্যাপেল হারিয়ে যাবে তবে আমাদের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে অ্যাপেলের ভূমিকা অন্যতম। অ্যাপেলের কিছু সফল প্রোডাক্ট নিয়ে আর একদিন আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। বিভিন্ন কোম্পানির উত্থান-পতন বা যাত্রা ও অপারেশন বিষয়ক আরো আর্টিকেল পড়তে আমাদের ব্যাবসা ক্যাটেগরি দেখার আমন্ত্রণ রইল।
কমেন্ট করুন